আজকের গল্পটা নাম আমাদের ভালোবাসা। গল্পের লেখক রৈসন আজ পরবো আমাদের ভালোবাসা।
bangla love story আরো ভালোবাসার গল্প পরতে ওয়েবসাইট এ ঘুরে দেখুন

তুমি কোথায় গো ?
-- ঘুমাই!
-- এই বিকেলে! প্লিজ বাইরে আসোনা একটু! (কাঁদো কাঁদো সুরে)
রুজির কান্নাভেজা সুর শুনে আকাশ  অবাক হয়ে যায়। কি হলো মেয়েটার! অবাক সুরে জিজ্ঞেস করে
- কি হইছে রুজি ?
রুজি -- অনেক কিছু , ফোনে বলা যাবে না। প্লিজ আসবা একটু ?
আকাশ -- হুম, বেরুচ্ছি এখনি, কোথায় আসবো ?
রুজি -- পার্কে
আকাশ -- হুম, আসছি
রুজির মনটা খুব খারাপ আজ। প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে ওর। আকাশকে বিষয়টা কিভাবে বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে রিকশা নিয়ে পার্কে চলে এলো ও। এসে দেখে অাকাশও চলে এসেছে। রুজিকে দেখে অবাক হয় আকাশ । গাল দুটো লাল হয়ে আছে মেয়েটার। চোখে কান্না কান্না ভাব। মনে হচ্ছে যেন, এক্ষনি কান্না করে দিবে। মুচকি হেসে আকাশ জিজ্ঞেস করে ।  কি হইছে বাবুটার?
রুজি-- কিছুনা
আকাশ--  তাইলে কান্না করো কেন?
রুজি -- কইই?
আকাশ-- আমাকে বলবানা?
এবার রুজি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না। হু হু করে কান্না করে দিলো আকাশের হাত ধরে। রুজির অবনত চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুর দিকে আকাশ তাকিয়ে থাকে অবাক চোখে । রুজি বাম হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে বলে -
রুজি-- কি হইছে জানো ?
রুজি-- বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিবে বলসে!
এই বলে রুজি ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদতে শুরু করলো। রুজির বাচ্চাদের মত কান্না করা দেখে আকাশ হেসে বলে -
- ওয়াও! দারুণ নিউজ। ছেলে কি করে?
রুজি চোখ তুলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
রুজি-- কি বললা?
আকাশ-- ইয়ে মানে, ছেলে কি করে? নাম কি?
রুজি অবাক হয়। কান্না থামিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
রুজি-- তার মানে, তোমার কিছু আসে যায়না না এতে!
আকাশ-- মোটেও না,
রুজি-- কি!
রুজি-- কি?
রুজি-- তুমি আমাকে বিয়ে করবানা?
আকাশ-- তোমার না বিয়ে হয়ে যাচ্ছে? তো কিভাবে বিয়ে করবো? আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না!
একথা শুনে রুজির চোখ ভরে কান্না এলো ভীষণ। যে মানুষটাকে রুজি এতো বিশ্বাস করতো, সে ই আজ ওকে রেখে চলে যাচ্ছে এমন করে! রুজি আর ভাবতে পারছে না কিছু! পাশে রাখা ব্যাগটা তুলে নিয়ে বেঞ্চ থেকে উঠে যাচ্ছে রুজি । আকাশ রুজির হাত ধরলো কিন্তু রুজি এক ঝটকায় হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে। রুজির মুখ বেয়ে নামা অঝোর কান্না আকাশ দেখতে পায় না। রুজি হেঁটে চলে একা, ভীষণ একা লাগছে  রুজির । আর আকাশ পিছনে বসে হাসছে!
রুজি বাসায় চলে আসে। কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমে এসে হু হু করে ভীষণ করে কেঁদে দেয় রুজি । ও আকাশকে ছাড়া থাকবে কি করে, এটা ভেবেই নিজেকে আর আটকে রাখতে পারছে না। ভীষণ একা বোধ করছে আজ রুজি।  আকাশ ওর সাথে এমন করতে পারলো!
এর ফাঁকে কখন যে রুজির ছোটবোন রুনা পাশে এসে দাড়িয়েছে , টেরই পায়নি রুজি। রুনা জিজ্ঞেস করে,
কাঁদছিস কেন আপু? রুজি তড়িঘড়ি করে চোখ মুছে বলে,
রুজি -- কই, কে কাঁদছে! যা এখান থেকে!
রুনা -- হুহ!
রুজি -- যা বলছি!
রুনা -- যাচ্ছি যাচ্ছি! ও, তোমার সাথে যার বিয়ে ওর ছবিটা তোমাকে দিতে বললো মা। এই নাও।
এই বলে রুনা ছবিটা রুজির বালিশের পাশে রেখে চলে যায়। ওটার দিকে না তাকিয়ে রুজি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শোয়। লোকটার ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছে ওর! আকাশের কথা মনে করে আবার কান্না চলে আসে রুজির।
কিছুক্ষণ পর, কি মনে করে উলটো করা ছবিটা হাতে নেয় রুজি । ভীষণ রাগে দুহাত দিয়ে ছবিটা দুমড়ে মুচড়ে ফেলে সে। তারপর কি মনে করে ছবিটা আবার ভাঁজ করে ওটায় হাসি হাসি মুখ করে থাকা ছেলেটার দিকে চেয়ে রুজি অবাক হয় ভীষণ ! এটা যে আকাশ এর  ছবি! রুজি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না! এসব তাহলে আকাশের কান্ড!
. ভীষণ অভিমানে চোখ ভরে প্রচন্ড কান্না চলে আসে রুজির! বুকের ভিতরের হু হু চাপা ব্যাথাটা নেই আর! বরং চোখ বেয়ে নেমে আসে প্রচন্ড খুশির অশ্রু! জানালার ফাঁক গলে আসা চাঁদের আলোয় চিকচিক করে ওঠে ওর চোখের জল।
. হঠাৎ , ফোনটা ভীষণ করে বেজে উঠে রুজির! আকাশের ফোন !  রুজি আজ আর ওর ফোন রিসিভ করবে না! অভিমানে।
কিছুদিন পরে রুজির বিয়ে হয়ে গেল। এখন ওরা অনেক খুশি।


Post a Comment

please do not any spam link in the comment box .

Previous Post Next Post